-->

কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম
কৃমির আক্রমণ মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। যদি এর সঠিক চিকিৎসা করা না হয় তাহলে এটি আপনার মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তাই অনেকে কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান।

আজকের আর্টিকেলে আমরা কৃমি বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে দিয়ে যেমন কৃমি কেন হয়, কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম এবং এই সমস্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা হয়তো কৃমিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাই কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। পুষ্টির অভাব দেখা দেওয়া, পেট ফাঁপা, পেট ফুলে যাওয়া, আমাশয়, পায়ুপথে চুলকানি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে অন্ত্রে কৃমির আক্রমণ হয়েছে।


সামান্য সমস্যা দেখা দিলে ফার্মেসি থেকে কৃমির ওষুধ নিয়ে এসে খেলে সমস্যা ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি বেশি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কৃমির ওষুধ খাওয়ার জন্য কিছু নিয়ম রয়েছে যেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

কৃমি কেন হয়

কৃমি সাধারণত অপরিষ্কার থাকা বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকার কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রমণ করে থাকে। কৃমি হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো। 


  • কৃমি আমাদের অন্ত্রে বাস করে এবং বেড়ে উঠে। সুতরাং এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের খাবার এবং পানির মাধ্যমে পেটে প্রবেশ করে থাকে।
  • অপরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হাত দিয়ে বিভিন্ন খাবার খেলে কৃমির আক্রমণ হয়। 
  • টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত পরিষ্কার না করলে পেটে কৃমির প্রবেশ হতে পারে। 
  • বিভিন্ন কাঁচা ফল-মূল ও শাকসবজি না ধুয়ে খেয়ে ফেললে। 
  • দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস থাকলে কৃমি মুখ দিয়ে মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে
  • খালি পায়ে বাথরুম অথবা টয়লেট ব্যবহার করলে কৃমির আক্রমণ হতে পারে। 

শিশুদের কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

শিশুরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কৃমি আক্রমণের শিকার হয়ে থাকে। কারণ তারা হাত অপরিষ্কার রেখে বিভিন্ন খাবার খেয়ে ফেলে। তাছাড়া অনেকে টয়লেট ব্যবহারের পর ভালো করে হাত পরিষ্কার করে না। এই সকল কারণে শিশুদের বেশিরভাগ কৃমি জনিত অসুখ হয়ে থাকে।


  • শিশুরা সুতা কৃমি বাদে অন্য কোন ক্রিমিতে আক্রান্ত হলে মেবেনডাজল ১০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট ১২ ঘন্টা পরপর ৩ দিন খাওয়াতে হবে।
  • অ্যালবেনডাজল ৪০০ মি.গ্রা. অথবা পিপেরাজিন ৪ গ্রাম ট্যাবলেটও খাওয়ানো যেতে পারে।

১ বছরের বাচ্চাদের কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

অনেকে ১ বছরের বাচ্চাদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম জানতে চান। সাধারণত আড়াই বছরের কম বাচ্চাদের জন্য এক নিয়মেই কৃমির ঔষধ খাওয়ানো হয়। আর্টিকেলের উপরে অংশে আমরা শিশুদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছি। ওই অংশটি পড়লে আপনারা ১ বছরের বাচ্চাদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম সম্পর্কে জেনে যাবেন। 

বড়দের কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

আড়াই বছরের পর থেকে বয়স্ক সকল ব্যক্তিদের জন্য কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম একই ধরনের। সকল ধরনের সুস্থ মানুষ যদি ৪ থেকে ৫ মাস পরপর নিয়মিত কৃমির ঔষধ খায় তাহলে কোন সমস্যা হয় না।


Albendzole, Mebendazole, Praziquantel, Ivermectine, Levamisol বাজারে এই সকল ধরনের কৃমির ওষুধ পাওয়া যায়। বড়দের ক্ষেত্রে সাধারণত অ্যালবেনডাজল ৪০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট বা সিরাপ পরপর দুই ডোজ নেওয়া যেতে পারে। এরপরেও সমস্যা থাকলে ২০ দিন পর আরো এক ডোজ খাওয়া যেতে পারে।

গুড়া কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

গুড়া কৃমিতে আক্রান্ত হওয়ার কিছু লক্ষণ হচ্ছে মলদ্বারে চুলকানি হওয়া, বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া, বারবার পেট ব্যাথা হওয়া ইত্যাদি। গুড়া কৃমি বা সুতা কৃমি দূর করার জন্য সবচেয়ে ভালো ঔষধ হচ্ছে সোলাস ট্যাবলেট বা সিরাপ।


দুই বছরের বেশি বা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য সোলাস ১০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট বা ১ চা চামচ সিরাপ প্রতিদিন দুইবার করে ৩ দিন যাবত খেতে হবে। এরপরেও যদি সমস্যা থেকে যায় তাহলে দুই সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।

কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার আগে না পরে খেতে হয়

আমাদের মধ্যে অনেকের প্রশ্ন থাকে কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ার আগে না পরে খেতে হয়। সাধারণত কৃমির ঔষধ খাওয়ার আগে এবং খাওয়ার পরে দুই সময়েই খাওয়া যায়।


যেকোনো সময় কৃমির ওষুধ খাওয়া যায় তবে অনেকের ক্ষেত্রে খাওয়ার পরে বমি বমি লাগতে পারে। সাধারণত প্রতি পাঁচ থেকে ছয় মাস পর পর নিয়মিত কৃমির ওষুধ খেলে সকল ধরনের কৃমির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

কৃমির ঔষধ খাওয়ার পর কি ভিটামিন খেতে হয়

না, কৃমির ঔষধ খাওয়ার পরে কোন ধরনের ভিটামিন, মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবার খেতে হয় না। কৃমির ঔষধ খাওয়ার পর ভিটামিন চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে হয় এ সমস্ত ধারণা ভুল। যারা এই ধরনের কথা বলে থাকেন তারা সমাজে কুসংস্কার সৃষ্টি করে।

কৃমির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেকে জানতে চান কৃমির ওষুধের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে কিনা। কৃমির ঔষধ যেহেতু প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস পর পর খেতে হয় তাই এই ওষুধের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায় না।


তবে, কৃমির ঔষধ ঔষধ খাওয়ার পরে অনেকের বমি বমি ভাব মাথা ঘোরা ইত্যাদি সমস্যা হতে দেখা যায়

শেষকথা 

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কৃমির ওষুধ খাওয়ার নিয়ম এবং এই ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমাদের এই পোষ্টের সবগুলো তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।


বি:দ্র: আমরা কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নই তাই আপনাকে ঔষধ গুলো সরাসরি খাওয়ার কোন পরামর্শ দিচ্ছি না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url