-->

ই ক্যাপ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা

ই ক্যাপ হলো এক ধরনের ভিটামিন জাতীয় ক্যাপসুল। অনেকে আছেন ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান। ই ক্যাপ এর অনেক উপকারী দিক রয়েছে। এটি মানুষের শরীরের বিভিন্ন ভিটামিন বিশেষ করে ভিটামিন ই এর চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ই আমাদের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভিটামিন ই এর অভাব দেখা দিলে শরীরের পেশিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আজকের এই পোস্টে আমরা ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা, ই ক্যাপ ব্যবহারের নিয়ম এবং ই ক্যাপ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছি।

ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা

ই ক্যাপ মুখে খাওয়া যায় এবং বাহ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যায়। এটি আমাদের শরীরের ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণ করে। ভিটামিন ই বিভিন্নভাবে বাজারে পাওয়া যায় তবে ই ক্যাপ বা ছোট ক্যাপসুল হিসাবে বেশি বিক্রি হয় এবং মানুষ এটি বেশি ব্যবহার করে।

ই ক্যাপ এর উপকারিতা

পৃথিবীর প্রত্যেকটি ওষুধের এই উপকারী এবং অপকারী দিক রয়েছে। তবে ই ক্যাপ এর অপকারিতার থেকে উপকারিতা অনেক বেশি। বাজারে সাধারণত ২০০/৪০০ ইত্যাদি পাওয়ারের ই ক্যাপ পাওয়া যায়। 


বিভিন্ন ধরনের কাজে ই ক্যাপ ক্যাপসুল ব্যবহার করা হয়। শরীরে ভিটামিন ই এর চাহিদা মেটানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের রূপচর্চা, সানস্ক্রিন ইত্যাদি হিসাবেও ই ক্যাপ এর ব্যবহার রয়েছে।


ই ক্যাপ এর উপকারিতাগুলো হলো:

  • শরীরে ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণ করতে সহায়তা করা।
  • চুলকে মজবুত ও শক্তিশালী করে তোলে।
  • ত্বক সুন্দর করতে সহায়তা করে থাকে।
  • নকে ব্যবহার করাও অনেক উপকারী।
  • সানক্রিম হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন।
এখন সকল উপকারিতাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

শরীরে ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণ

আমাদের শরীরে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এর অভাব দেখা দেয়। এইসব ভিটামিনের অভাব বাইরে থেকে আলাদা ভিটামিন গ্রহণের মাধ্যমে পূরণ করা যায়। ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণ করার জন্য ই ক্যাপ অনেক উপকারী হতে পারে।


আপনার শরীরে ভিটামিন ই কম থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ই ক্যাপ সেবন করতে পারেন। এতে করে আপনার শরীরে ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণ হবে।

চুলের যত্নে ই ক্যাপ 

বর্তমানে অনেকে চুলের যত্নে এই ক্যাপ ক্যাপসুল ব্যবহার করে থাকেন। কারণ ভিটামিন ই এবং অন্যান্য কমপ্লেক্স ভিটামিন এর অভাবে চুল অনেক সময় খসখসে এবং সুন্দর হয়ে যায়। ভিটামিন ই যুক্ত ই ক্যাপ ব্যবহার করলে চুলের মসৃণতা ঠিক থাকে।


সাধারণত আপনার নিয়মিত ব্যবহার করা তেলের সাথে এই ক্যাপ ক্যাপসুল মিশিয়ে ব্যবহার করতে হবে। এতে করে আপনার চুল আগের থেকে অনেক মজবুত শক্ত এবং সুন্দর হবে।

ত্বকের যত্নে ই ক্যাপ

ত্বকের যত্নে ই ক্যাপ ক্যাপসুল খুবই উপকারী হতে পারে। রোদে ত্বক নষ্ট হয়ে গেলে অথবা কালো হয়ে গেলে এবং ব্রণ অথবা অন্যান্য সমস্যা দেখা দিলে বিভিন্ন ধরনের ফেসপ্যাক এর সাথে ই ক্যাপ মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।


ই ক্যাপ এর মধ্যে থাকে অনেক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সাহায্য করে।

নখের যত্নে ই ক্যাপ

নখের যত্নে ই ক্যাপ এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। যত্ন না নেওয়ার কারণে আমাদের নখ গুলো অনেক সময় হলুদ হয়ে যায় এবং হালকা আঘাতেই ভেঙ্গে যেতে পারে। এই সকল সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে ভিটামিন ই।


ই ক্যাপে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ই থাকে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় ই ক্যাপসুল এর ভেতরে থাকা অংশটি নখের উপরে ভালো করে দিয়ে হালকা মালিশ করে ঘুমাতে হবে। এইভাবে নিয়মিত ই ক্যাপসুল ব্যবহার করলে নখ অনেক মজবুত হবে এবং দেখতেও অনেক সুন্দর হবে।


Related Article: থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

সানস্ক্রিম হিসেবে ই ক্যাপ

অনেকে আছেন যারা সানস্ক্রিম হিসাবেও ই ক্যাপ ব্যবহার করে থাকেন। তবে সরাসরি শুধু ই ক্যাপকে সানস্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আপনার অন্যান্য ক্রিমের সাথে ই ক্যাপসুল মিশিয়ে তারপর সেটি সানস্ক্রিম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার ত্বক রোদে পুরা থেকে রক্ষা পাবে।


তবে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সানস্ক্রিন পাওয়া যায় যেগুলো ভিটামিন ই যুক্ত। সেগুলোর সাথে আর এই ক্যাপসুল ব্যবহার করার দরকার নেই। 

ই ক্যাপ এর অপকারিতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ভিটামিন ই জাতীয় খাবারে বা ক্যাপসুলে আপনার যদি কোন এলার্জি থেকে থাকে তাহলে ই ক্যাপ আপনার জন্য বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ইক্যাপ সেবন করলে বা ব্যবহার করলে ডায়রিয়া, পেট ব্যাথা সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।


তাই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ই ক্যাপ সেবন করবেন এবং অতিরিক্ত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। 

ই ক্যাপ মুখে দিলে কি হয়

অনেকেই জানতে চান ই ক্যাপ মুখে দিলে কি হয়। ই ক্যাপ যেহেতু একটি ভিটামিন জাতীয় ক্যাপসুল তা এটি মুখে ব্যবহার করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। ই ক্যাপ মুখে দিলে মুখে টাকা বিভিন্ন ব্রণ কালো দাগ ইত্যাদি দূর হয়ে যায়।


এছাড়া নিয়মিত ই ক্যাপ মুখে এবং ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের লাবণ্য বজায় থাকে। তবে সব সময় অতিরিক্ত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মুখে ই ক্যাপ ব্যবহারের নিয়ম

মুখেই ক্যাপ ব্যবহারের নিয়ম অনেক ধরনেরই হতে পারে। যেমন বিভিন্ন ধরনের ক্রিমের সাথে এই ক্যাপসুল মিশিয়ে মুখে এপ্লাই করা যায়।


আবার নিজে বিভিন্ন ফেসপ্যাক তৈরি করার সময় এর সাথে ই ক্যাপসুল মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘরে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ফেস মাস্কের সাথে ই ক্যাপসুল মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করা ভালো।

ই ক্যাপ কখন খেতে হয়

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের ই ক্যাপ পাওয়া যায় যার মধ্যে রয়েছে E cap 200, 400, 600 ইত্যাদি।


  • ই ক্যাপ 200 সাধারণত প্রতিদিন সকালে এবং রাতে একটি করে খেতে হয়।
  • 400 এবং 600 প্রতিদিন এক বেলা সকালে বা রাতে খাওয়া ভালো।

ই ক্যাপ খেলে কি হয়

এই ক্যাপ ভিটামিন এ জাতীয় ক্যাপসুল এটি খেলে শরীরে বিভিন্ন উপকার হয় শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়। বিভিন্ন ধরনের ত্বকের যত্নেও একে ব্যবহার করা হয়।


এই ই ক্যাপ শরীরে ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণ করে আপনার শরীরকে সুস্থ এবং সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

শেষকথা

এই পোস্টে আমরা ই ক্যাপ এর উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি আপনাদের কাছে আমাদের এই পোস্টটি ভালো  লাগবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url